মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

কি কি সমস্যা কিভাবে সমাধান করবেন

ভ্যাকসিন  বা টিকা কি ?

শরীর কৃত্রিম উপায়ে প্রতক্ষ্য রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আরো সক্রিয় করে তোলাকেই ভ্যাইক্সিনেশন বলে। যা দ্বারা কৃত্রিমভাবে এই কাজটি করা হয় তাকে বলে ভ্যাকসিন বা টিকা।

ভ্যাকসিন ব্যবহারে কয়েকটি সাধারন শর্ত :

১। ভ্যাকসিন যে উৎস হতে সংগ্রহীত হল সে খানে পর্যাপ্ত কোন রুম বা ফ্রিজ বা অন্য কোন বৈদ্যুতিক

     ব্যবস্থা না থাকে তবে সেখানকার ভ্যাকসিন ব্যবহার মোটেই ঠিক নয়।

২। প্রস্ততকারক কোম্পানির নীতিমালা ব্যবহার বিধি মেনে চলতে হবে।

৩। যেসব ভ্যাকসিন ব্যবহার করলে অধিক মাত্রায় এন্টিবডি উৎপন্ন হয় এবং অনেকদিন পর্যন্ত তা রত্তে

    থেকে শরীরকে নিরাপদে রাখতে পারে সে সমস্ত প্রস্ততকারকের ভ্যাকসিন বিশেষস্তের পরামর্শক্রমে

     ব্যবহার করা উচিত।

৪। বিদেশ হতে আমদানিকৃত ভ্যাকসিন কোন কোন সময় আমাদের দেশের আবহাওয়ায় ভাল ফল দেয়  

     না তাই সর্বদাই বিশেষত্তের পরামর্শক্রমে ভ্যাকসিন ব্যবহার করতে হবে

 

ভ্যাকসিন বা টিকা কার্যকরি না হওয়ার কারন সমূহ :

 

) ভ্যাকসিন বা টিকা সংক্রন্ত ক্রটি সমূহ :

১। টিকা এমন বীজ দ্বারা তৈরী হলো যা ক্ষেএ বিশেষ রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব হল না

২। সংক্রমিত ভ্যাকসিন

৩। অপর্যাপ্ত পরিমান ভ্যাকসিন প্রদান

 

 

) টিকা সংরক্ষন পরিবহন গুলানো সংক্রান্ত ক্রটি সমূহ :

১। টিকা প্রস্ততের পর যদি প্রস্ততকারকের নির্দেশনার বাইরে নিম্ন বা উচ্চ তাপমাত্রায়  সংরক্ষন করা হয়

২। টিকাকে ডিপ ফ্রিজের মধ্যে জমিয়ে ফেললে টিকার গুনাগুন নষ্ট হয়

৩। টিকা ফ্লাস্কে বরফ দিয়ে পরিবহন না করলে টিকার গুনাগুন নষ্ট হয়

৪। টিকাকে সঠিক পরিমান ডিষ্টিলড ওয়াটার এর সাথে না গুলানো টিকার গুনাগুন নষ্ট হয়।

৫। গুলানো টিকার ছায়াযুক্ত স্থানে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োগ না করলে টিকার গুনাগুন নষ্ট হয়

) প্রয়োগ সংক্রান্ত ক্রটি সমূহ :

১। মুরগীতে রোগ সংক্রমের পর টিকা প্রদান

২। অন্যান্য অসুখে আক্রান্ত পশু পাখিকে টিকা প্রদান যেমন কৃমি, রক্ত আমাশা ইত্যাদি

৩। এক প্রজাতির পশু পাখির টিকা অন্য প্রজাতির প্রয়োগ

৪। অনিধারিত স্থানে টিকা প্রয়োগ

ভ্যাকসিন বা টিকা পরিবহন ব্যবহার বিধি :

১। কোন ক্রমেই ক্ষিরা, তরমুজ, কলা ইত্যাদির ভিতর টিকা বহন করা যাবে না। ফ্লাস্কের মধ্যে বরফ  

     দিয়ে টিকা বহন করতে হবে

২। রৌদ্রের মধ্যে টিকা নিয়ে যাওয়া অনুচিত

৩। বেশী দুরে এবং অনেক সময়ের জন্য টিকা পরিবহন করতে হলে মাঝে মাঝে ফ্লাস্কে বরফ আছে কিনা

     তা পরখ করতে হবে

৪। সকাল-বিকাল যখন তাপমাত্রা তুলনামূলক ভাবে কম থাকে তখন টিকা ব্যবহার করতে হবে

৫। টিকা ব্যবহার পূর্বে ক্ষেত্র বিশেষে তা ঝাকিয়ে ব্যবহার করতে হবে

৬। অবশ্যই পাতি পানি (ডিষ্টিল ওয়াটার)দিয়ে টিকা গুলিয়ে ব্যবহার করতে হবে

৭। রোগাক্রান্ত মুরগিকে টিকা ব্যবহার অনুচিত

৮। অতিরিক্ত কৃমি দ্বারা আক্রান্ত থাকলে বা ককসিডিওসিস রোগে প্রতিরোধ সম্ভব নয়

৯। প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে বা মুরগী অপুষ্টিতে আক্রান্ত থাকলেও টিকা ভালভাবে কার্যকর হয় না।

১০। শরীরের যেখানে টিকা প্রয়োগের জন্য নিদেশনা থাকবে, সেখানেই সে টিকা দিতে হবে।

ভ্যাকসিন বা টিকা প্রয়োগ পদ্ধতি :

১। চোখে বা নাকে ফোটার মাধ্যমে।

২। চামড়ার নীচে বা মাংশ পেশীতে ইন্জেকশনের মাধ্যমে।

৩। মুখ দিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে বা ঠোট ডুবিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে।

৪। সুচ দিয়ে বা পালক উঠিয়ে ক্ষত সৃষ্টির মাধ্যমে

৫। স্প্রে বা বাতাসে ছিটানোর মাধ্যমে।

৬। খাবার পানির মাধ্যমে।

মুরগীর রোগ প্রতিরোধের জন্য নিম্নিলিখিত জৈব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে :

১। সুস্থ রোগমুক্ত খামার থেকে বাচ্চা ক্রয়।

২। নিয়মিত টিকা প্রদান।

৩। মুরগীর বাসস্থান স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া।

৪। অল্প জায়গায় বেশী মুরগী না রাখা।

৫। ঘর সব সময় শুকনো এবং পর্যাপ্ত আলো বাতাসযুক্ত হওয়া।

৬। খামারের পরিবেশ মশা, মাছি, কীটপতঙ্গ মুক্ত রাখা।

৭। ঘর শুকনা রাখার জন্য ঘরের মেঝেতে কাঠের গুড়া, ধানের তুষ, ছাই ইত্যাদি।

৮। একই বয়েসর একই জাতের মুরগীর একই ঘরে রাখা।

৯। ঘর সব সময় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

১০। খামারের পয়:নিস্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখা।

১১। পর্যাপ্ত পরিমানে খাবার পানি প্রয়োজনমতো সুষম খাদ্য সরবরাহ করা।

১২। খাবার পানিতে লিটারের সংমিশ্রন রোধ।                                                 

১৩। বন্য প্রানী, কাক, চিল, শিয়াল প্রভুতি যাতে প্রবেশ করে রোগ ছড়াতে না পারে সেদিকে নজর রাখা।

১৪। এক খামার থেকে অন্য খামারে খাদ্য যন্ত্রপাতি আদান প্রদান না করা।

১৫। বাইরের লোককে খামারে প্রবেশ করতে না দেয়া।

১৬। যান্ত্রিক বাহন খামারের আশ পাশ যন্ত্রপাতি রীতিমতো স্প্রে করা।

১৭। বাজার থেকে আনা মুরগীকে খামারের মুরগীর সাথে একত্রে না মিশানো।

১৮। মৃত জবাই করা মুরগীর পরিত্যাক্ত অংশ মাটির নীচে পুঁতে ফেলা।

১৯। সময়মত কৃমিনাশক ঔষধ খাওয়ানো।

২০। খামারে ফুটপাতের ব্যবস্থা করা।

ডিম উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণসমুহ :

১। হঠাৎ প্রচন্ড গরম বা অত্যধিক শীত।

২। কম জায়গায় বেশী মুরগী পালন।

৩। হঠাৎ করে মুরগীর খাদ্যের উপকরণ পরিবর্তন।

৪। খাদ্য, সুষম না হলে- অর্থাৎ আমিষ, শর্করা, খনিজ, চর্বি, ভিটামিন ইত্যাদির ঘাটতি থাকলে।

৫। শুকনা খাবারের পরিবর্তে ভেজা খাবার দিলে।

৬। হঠাৎ করে খাদ্য সরবরাহের সময় পরিবর্তন হলে।

৭। পর্যাপ্ত পরিমান পানিয় জলের অভাব হলে।

৮। হঠাৎ করে মুরগী ঘর থেকে অন্য ঘরে বা দল থেকে অন্য দলে স্থানান্তরিত হলে।

৯। মুরগী হঠাৎ কোনো কারণে ভয় পেলে বা বিকট আওয়াজ হলে অথবা অন্য জীবজন্তু দেখলে।

১০। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ।

১১। অসুখ হলে।

১২। ঔকুন কৃমি ইত্যাদিতে আক্রান্ত হলে।

১৩। মুরগীর ঘরে প্রয়োজনমত পর্যাপ্ত আলোর অভাব।মুরগীর ঘরে আলোর পরিমান হবে ১৪-১৬ ঘন্টা।

১৪। মুরগীর পালক বদলের সময়।

১৫। মুরগীর বয়স বেশী হলে।

১৬। ত্রুটিপূর্ন ব্যবস্থাপনা।

১৭। বায়ুচলাচলে বাধাঁ।

ডিম পাড়া মুরগীর খাদ্য তৈরীর নিয়মাবলী :

১। গম/ ভুট্টা ভাঙ্গা                    - ৫০ ভাগ

২। চাউলের কড়া                       - ২০ ভাগ

৩। সরিষার খৈল                       - ১৫ ভাগ

৪। শুটকি মাছের গুড়া               - ১০ ভাগ

৫। ঝিনুকের গুড়া                      - ০৩ ভাগ

৬। লবন                                  - ০১ ভাগ

৭। ভিটামিন, খনিজ পাউডার     - ০১ ভাগ        

প্রতিটি ডিমপাড়া মুরগীকে মিশ্রিত খাবারের ১১০-১১৫ গ্রাম খাবার দিতে হবে প্রতিদিন।